১৭ বছর ধরে শুধুমাত্র জীবাণু নিয়ে কাজ করে, 'কে-পপের মতো কে-প্রোবায়োটিকসও সম্ভব'Society
N(국민일보)
·2026.07.03
82
দক্ষিণ কোরিয়ার স্বাস্থ্য ও পুষ্টি খাতে বর্তমানে এক নতুন ট্রেন্ড তৈরি হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে কোরিয়ান পপ সংস্কৃতির মতো জনপ্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। সম্প্রতি, ১৭ বছর ধরে জীবাণু নিয়ে নিবিড় গবেষণার পর একজন কোরিয়ান গবেষক দাবি করেছেন যে 'কে-প্রোবায়োটিকস' নামে পরিচিত স্থানীয়ভাবে তৈরি প্রোবায়োটিক পণ্যগুলো বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে বয়স্ক জনসংখ্যার মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, কে-পপের মতো কে-প্রোবায়োটিকসও কোরিয়ার একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। এই প্রোবায়োটিকসগুলো শুধু হজমশক্তি উন্নত করে না, বরং প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও সহায়ক হতে পারে, যা আধুনিক জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক কোরিয়ান কোম্পানি এখন স্থানীয়ভাবে উৎপন্ন菌株 (strain) ব্যবহার করে এমন প্রোবায়োটিকস তৈরি করছে যা আমদানিকৃত পণ্যের প্রতিস্থাপন হিসেবে কাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রবেশ করছে।
কোরিয়ার এই কে-প্রোবায়োটিকসের উত্থান বিদেশি কর্মী ও বাসিন্দাদের জন্যও একটি সুসংবাদ। দেশের বিভিন্ন স্থানে কাজের সুবাদে আসা প্রবাসীরা প্রায়শই খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে স্বাস্থ্যগত সমস্যার সম্মুখীন হন। কে-প্রোবায়োটিকস এই ধরনের সমস্যা মোকাবেলায় একটি কার্যকর প্রাকৃতিক সমাধান হতে পারে। বিশেষ করে, কোরিয়ার স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সাথে এই প্রোবায়োটিকসগুলো যোগ করলে তা সামগ্রিক সুস্থ জীবন ধারণে সহায়তা করবে। মেডিওজেন (Mediogen)-এর মতো কোরিয়ান বায়োটেক কোম্পানিগুলো ইন্দোনেশিয়ার হালাল সার্টিফিকেশন অর্জন করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে প্রোবায়োটিকস প্রবেশ করাচ্ছে, যা কোরিয়াতে হালাল খাদ্য এবং পণ্যের প্রতি বিদেশি মুসলিম সম্প্রদায়ের আগ্রহ বৃদ্ধি করবে। এর ফলে, প্রবাসীরা নিজ দেশের সংস্কৃতি এবং খাদ্যাভ্যাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্বাস্থ্যকর পণ্য সহজে খুঁজে পাবেন।
এই নতুন প্রবণতা থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে, কোরিয়াতে বসবাসকারী বিদেশি কর্মী ও বাসিন্দাদের উচিত প্রোবায়োটিকস সম্পর্কে সচেতন হওয়া। সুপারমার্কেট বা ফার্মেসিতে K프로바이오틱스 (কে-প্রোবায়োটিকস) লেবেলযুক্ত পণ্যগুলি খুঁজতে পারেন। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রোবায়োটিকস রয়েছে, তাই ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী গবেষণা করে বা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে সঠিক পণ্যটি নির্বাচন করা ভালো। অনেকে হয়তো জানেন না যে, কোরিয়ার নিজস্ব菌株 থেকে তৈরি প্রোবায়োটিকস বাজারের আমদানিকৃত পণ্যগুলির চেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে, কারণ এগুলি কোরিয়ানদের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার সঙ্গে বেশি মানানসই। এই পণ্যগুলি নিয়মিত গ্রহণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে, হজমশক্তি ভালো থাকবে এবং দৈনন্দিন জীবনে আরও সুস্থ ও সতেজ থাকা সম্ভব হবে। স্বাস্থ্য সচেতনতার এই নতুন ঢেউয়ে শামিল হয়ে নিজেদের সুস্থ ও কর্মঠ রাখতে এই প্রোবায়োটিকস একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
Comment (0)