‘মুসোপনো’ শব্দে দেশজুড়ে হৈচৈ: ‘ইলবে’ সংস্কৃতি কি সমাজকে বিভক্ত করছে?Society
NNaver News
·2026.07.07
7
সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় ‘মুসোপনো’ (무섭노) শব্দটি ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, যা সোশ্যাল মিডিয়া এবং সংবাদমাধ্যমে ঝড় তুলেছে। এই শব্দটি একজন জনপ্রিয় আইডল ব্যবহার করার পর পরই ‘ইলবে’ (일베) সংস্কৃতির সাথে এর সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ‘ইলবে’ হলো একটি অনলাইন সম্প্রদায়, যা ঘৃণা, উপহাস এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ছড়ানোর জন্য পরিচিত। এই সম্প্রদায়ের ব্যবহৃত নির্দিষ্ট কিছু শব্দ বা বাক্যের ব্যবহারের প্রবণতা এখন সাধারণ কথোপকথনেও বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে, কারণ অনেকেই মনে করছেন, এর মাধ্যমে সমাজের বিভেদ আরও প্রকট হচ্ছে। এমনকি প্রাক্তন বিচারমন্ত্রী চো কুক এবং সাবেক পিপল পাওয়ার পার্টির নেতা লি জুন-সোকের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও এই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন, যেখানে কেউ এটিকে ‘ইলবে শনাক্তকরণ পদ্ধতি’ বলছেন, আবার কেউ এটিকে ‘মতাদর্শিক পরীক্ষা’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন। এই বিতর্কের মূলে রয়েছে ‘নো’ (노) প্রত্যয়ের ব্যবহার, যা মূলত দক্ষিণ-পূর্ব কোরিয়ার আঞ্চলিক উপভাষা (যেমন উলসান বা গয়েজে এলাকার) একটি অংশ হলেও, ‘ইলবে’ ব্যবহারকারীরা প্রায়শই একে ব্যঙ্গাত্মক বা অবমাননাকর অর্থে ব্যবহার করে থাকে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসকারী বিদেশি কর্মী ও বাসিন্দাদের জন্য এই ধরনের বিতর্কগুলি গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বিদেশি, বিশেষ করে যারা কোরিয়ান ভাষা শিখছেন বা কোরিয়ান সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হচ্ছেন, তাদের পক্ষে কোন শব্দ বা অভিব্যক্তি কখন এবং কোন প্রেক্ষাপটে আপত্তিকর হতে পারে তা বোঝা কঠিন। ‘ইলবে’ সংস্কৃতি সমাজে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, বিশেষ করে দুর্বল গোষ্ঠীগুলির প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে। বিদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে, ভাষার ভুল ব্যবহার বা সাংস্কৃতিক ভুল বোঝাবুঝির কারণে তারা না জেনেও বিতর্কের শিকার হতে পারেন। এই ধরনের পরিস্থিতি কর্মস্থলে বা সামাজিক মেলামেশায় অবাঞ্ছিত ভুল বোঝাবুঝি বা এমনকি বৈষম্যের কারণ হতে পারে। তাই, স্থানীয় সংস্কৃতি ও ভাষার সূক্ষ্মতা সম্পর্কে সচেতন থাকা বিদেশিদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
এই ধরনের বিতর্কের মধ্যে নিজেদের নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে, দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসকারী বিদেশি কর্মী ও বাসিন্দাদের কিছু বিষয় জানা প্রয়োজন। প্রথমত, কোরিয়ান ভাষা ব্যবহার করার সময় স্থানীয় উপভাষা এবং এর ব্যবহার সম্পর্কে সতর্ক থাকুন, বিশেষ করে ‘নো’ (노) প্রত্যয়ের মতো বিতর্কিত শব্দগুলির ক্ষেত্রে। যদি আপনি দক্ষিণ-পূর্ব কোরিয়ার উপভাষার সাথে পরিচিত না হন, তবে এমন শব্দ বা বাক্যাংশ ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন যা ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করতে পারে। দ্বিতীয়ত, কোরিয়ার অনলাইন সংস্কৃতি এবং ‘ইলবে’ (일베) এর মতো বিতর্কিত অনলাইন সম্প্রদায় সম্পর্কে একটি সাধারণ ধারণা রাখুন, যাতে আপনি তাদের ব্যবহৃত প্রতীক বা ভাষা চিনতে পারেন। তৃতীয়ত, যদি কোনো কোরিয়ান ব্যক্তি আপনাকে কোনো নির্দিষ্ট শব্দ বা বাক্য ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন, তবে তা মেনে চলুন। সবশেষে, যখন কোনো শব্দ বা বাক্যের ব্যবহার নিয়ে সন্দেহ থাকে, তখন একজন বিশ্বস্ত কোরিয়ান বন্ধু বা সহকর্মীর কাছে জিজ্ঞাসা করুন। সচেতনতা এবং শ্রদ্ধাশীল মনোভাব বজায় রাখলে আপনি কোরিয়ান সমাজে নিজেকে আরও সহজে মানিয়ে নিতে পারবেন এবং অবাঞ্ছিত বিতর্ক এড়াতে পারবেন।
Comment (0)